A Reliable Media

দেশে ভারসাম্যহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা চলছে: রেলমন্ত্রী

দেশে ভারসাম্যহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা চলছে: রেলমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক: দেশে ভারসাম্যহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা চলছে, উল্লেখ করে রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, পৃথিবীতে যে দেশ যত উন্নত, সে দেশের রেল ব্যবস্থা তত উন্নত। কিন্তু আমরা সড়ক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। রেলের উন্নয়নকে অবজ্ঞা করা মানে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আত্মঘাতী।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে নীলফামারী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ভারতের সঙ্গে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের চিলাহাটি হতে ভারতের হলদীবাড়ি রেলপথে রেল যোগাযোগ পূণঃচালুকরণের নিমিত্তে বাংলাদেশ ও ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীদ্বয় কর্তৃক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন এর প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক পথ আমাদের প্রয়োজন উল্লেখ্য করে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারগুলোর ভ্রান্ত নীতির কারণে সড়ক পথকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব না দেওয়ায় রেল সেক্টর সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ১৯৭৩-৭৫ সালে দেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলো ৩ হাজার কিলোমিটার আর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার। বর্তমানে সেই সড়ক যোগযোগ ব্যবস্থা উন্নতি হয়ে ৩৫ হাজার কিলোমিটার হচ্ছে কিন্তু রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সেই ৩ হাজার কিলোমিটারেই রয়ে গেছে, বরং ১২টি পয়েন্টে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৯১-১৯৯২ সালে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় থাকার সময়ে ১০ থেকে ১২ হাজার রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গোল্ডেন হ্যাণ্ডসেক দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। রেলে কোনো নতুন রিক্রটমেন্ট ছিলো না। যেখানে ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত ৬৮ হাজার লোকবল ছিলো। সে সময় থেকে এখন জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলেও রেলের জনসংখ্যা কমিয়ে ২৫ হাজারে নামানো হয়েছে। ১০৭টি রেলস্টেশন এখন পর্যন্ত বন্ধ হয়ে আছে। সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন রেল কারাখানা আগের সামর্থ্য হারিয়েছে। ধীরে ধীরে রেলকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল।

১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রেল ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে সংকুচিত করা হয়েছে উল্লেখ্য করে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সরকারি যে সংস্থাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো সেটি হলো রেল। দেশ স্বাধীনের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই দেশের রেল ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন করেছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, সড়কের উন্নয়ন হোক সেটি আমাদের কাম্য, কিন্তু পাশাপাশি রেলের উন্নয়ন অবজ্ঞা করাটা একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আত্মঘাতী। যে কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে রেলকে পুনর্গঠন করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। আলাদা রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে স্বল্প, মধ্য, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। যে কারণে বঙ্গবন্ধু সেতু এবং পদ্মা সেতুতে রেল সংযুক্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে আলাদা একটি ডবল লাইনের ডেডিকেটেট রেল সেতু স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ওই সেতু দিয়ে ব্রডগেজ ১২০ এবং মিটারগেজ ১০০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলবে। পশ্চিমাঞ্চলের মিটারগেজ লাইগুলোকে ডয়েলগেজ করার কাজ চলছে। পূর্বাঞ্চলের মিটারগেজ লাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

রেলপথ মন্ত্রী বলেন, নীলফামারী জেলার চিলাহাটি হয়ে ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন উদ্বোধনের মাধ্যমে ওই চাহিদা পূরণ হবে। আগামী বিজয় দিবসকে সামনে রেখে ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নবনির্মিত চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেনের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি ২০২১ সালের ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাত্রীবাহী রেল চলাচলের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আশা করি ২৬ মার্চ থেকে এপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে।

সভায় জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য রাবেয়া আলীম, সাবেক সংসদ সদস্য এন.কে আলম চৌধুরী, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আতিকুর রহমান, রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অপারেশন সরকার সাহাদাৎ আলী, নীলফামারী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবদিন, নীলফামারী ৫৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মামুনুল হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর কবির, চিলাহাটি রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রহীম ও রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানেরা। পরে বিকেলে মন্ত্রী চিলাহাটি রেল স্টেশন ও উদ্বোধন অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, অবিভক্ত ভারতে প্রধানতম একটি রেলপথ ছিলো চিলাহাটি-হলদিবাড়ি। কলকাতা থেকে এ পথে ট্রেন যাওয়া আসা করতো। ভারত-পাকিস্থান বিভক্তির পরও এটি চালু ছিলো। কিন্তু ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর যোগাযোগ ব্যবস্থাটি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে চিলাহাটি থেকে হলদিবাড়ি পর্যন্ত রেলপথটি পরিত্যক্ত হয়। পুরোনো সে পথটি সচল করার কাজ হাতে নেয় বর্তমান সরকার। এরই আলোকে বাংলাদেশ অংশে চিলাহাটি থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ছয় দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার রেলপথ ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর।

অপরদিকে, ভারতের হলদিবাড়ি থেকে হলদিবাড়ি সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপনের কাজ শেষ করে ভারতীয় রেলওয়ে।

editor

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *