A Reliable Media

পরমাণুবিজ্ঞানী হত্যায় তুরস্কের নিন্দা

পরমাণুবিজ্ঞানী হত্যায় তুরস্কের নিন্দা

অনলাইন ডেস্ক: পরমাণুবিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিযাদেহ হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে তুরস্ক। ইরানের ঘটনাটিকে ‘ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানায় দেশটি।

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘‘আমরা এ ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই৷ ইরান সরকার এবং নিহতের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি।”

এ ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়ে বিবৃতিতে সবাইকে এ অঞ্চলে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাজ্য ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। যুক্তরাজ্য এ অঞ্চলে অস্থিরতা কমে আসছে এমন পরিস্থিতি দেখতে চায় জানান ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘‘ইরানে যা ঘটেছে তার বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় আছি আমরা। তবে আমরা কঠোরভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন মেনে চলি যা সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলার বিরোধী।”

বিজ্ঞানী ফাখরিযাদেহকে শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়। ইরান এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে।

এ প্রসঙ্গে শনিবার জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা সংযত থাকার এবং ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার মতো যে কোন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।”

আরও বলেন, “আমরা বিচারবহির্ভূতসহ যে কোন হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছি।”

শুক্রবার তেহরানের কাছে দামাভান্দ কাউন্টির আবসার্ড এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন ফখরিযাদেহ। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে মারা যান।

এ ঘটনার হত্যার জন্য ইসরায়েলসহ আন্তর্জাতিক শক্তিকে দায়ী করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে তিনি বলেন, “আবারও একবার দখলদার ইহুদিদের ভাড়াটে খুনিদের রক্তাক্ত হাতের সঙ্গে শয়তানি হাত মেলালো বৈশ্বিক ঔদ্ধত্য শক্তিগুলো।”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা হোসেইন দেঘান বলেন, “এই হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের ওপর বজ্রের মতো আঘাত হানা হবে।”

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল।

ফখরিযাদেহ ছিলেন সর্বাধিক খ্যাতিমান ইরানি পরমাণুবিজ্ঞানী এবং অভিজাত ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড কোরের সিনিয়র অফিসার।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা তাকে ‘ইরানি বোমার জনক’ হিসেবে অভিহিত করতেন।

২০১৮ সালে ইসরায়েলের থেকে পাওয়া গোপন নথি অনুসারে তিনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

editor

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *