A Reliable Media

বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যে প্রথম শুল্কমুক্ত বাণিজ্যচুক্তি

বাংলাদেশ-ভুটানের মধ্যে প্রথম শুল্কমুক্ত বাণিজ্যচুক্তি

অনলাইন ডেস্ক: স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রথম স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশ ভুটানের সঙ্গে আজ রবিবার অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন। বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং ভুটানের পক্ষে দেশটির ইকোনমি অ্যাফেয়ার্স মিনিস্টার লোকনাথ শর্মা এতে স্বাক্ষর করবেন।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসম্বের ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ওই দিনটিকে সামনে রেখেই চুক্তি স্বাক্ষরের দিন ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া আগামী জুনের মধ্যে আরও ১১টি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্যে কাজ চলছে।

শনিবার রাজধানীর ফরেন মিনিস্ট্রি অ্যাকাডেমিতে চুক্তিপূর্ব এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনের সঞ্চালনা করেন বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন। এতে বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফরেন মিনিস্ট্রি অ্যাকাডেমিতে আজকের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েন্টসিল উপস্থিত থাকবেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তিটি হতে যাচ্ছে ভুটানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে। ভুটান প্রথম দেশ যারা ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্ব আমাদের স্বীকৃতি দেয়। ৪৯ বছর ধরেই তাদের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। ভুটানের সঙ্গে গত বছরের ২২ ও ২৩ আগস্ট নেগোশিয়েশন কমিটির প্রথম সভা হয়। গত ১৬ জুন দ্বিতীয় বৈঠকে এর খসড়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভা এটিকে অনুমোদন দেয়। ওই দিনই আমরা সিদ্ধান্ত নিই বাংলাদেশ-ভুটানের যে স্বাধীনতার সম্পর্ক সেই দিনটিকে সামনে রেখেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

তিনি আরও বলেন, ভুটানের বৃহত্তম বাণিজ্য বাজার বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গেই বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্য চুক্তি। ক্রমেই আমরা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আগামী জুনের মধ্যে আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে পিটিএ বা এফটিএ করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা এটাও জানি যে, অনেক সময় এ কথা বলা হয় বাণিজ্য চুক্তির কারণে আমাদের রেভিনিউতে একটা প্রভাব পড়বে। আমাদের রেভিনিউর বড় একটি অংশ নির্ভর করে ডিউটির (শুল্ক) ওপর। যার জন্য কিছুটা হলেও আমাদের অর্থনীতির ওপর চাপ পড়বে। ২০২৪ সাল কাছাকাছি করছে। এই সময়ের পর আমরা কিন্তু বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাগুলো হারাব। তাই আগে থাকতেই আমাদের এসব চুক্তি সেরে ফেলতে হবে। আপাত দৃষ্টিতে আমাদের ওপর একটা চাপ পড়বে। কিন্তু লম্বা সময়ের কথা চিন্তা করলে আমরা কিন্তু লাভবান হব।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১২ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি করেছে দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমদানি হয়েছে ৪২ দশমিক ০৯ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার।

দেশটির সঙ্গে পিটিএ স্বাক্ষরিত হলে বিশাল পরিমাণ আমদানি শুল্ক থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের লাভ কী জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন বলেন, আপাত দৃষ্টিতে আমরা প্রথমেই রাজস্ব হারাব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি হিসাব করলে আমরা লাভবান হব। দেশটির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সেখানে আমাদের পণ্য শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশ করতে পারবে। আমরা হিসাব করে দেখেছি, আমাদের রপ্তানি বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে। কর্মসংস্থান বাড়লে খরচ বাড়বে। এটা আমাদের রেভিনিউতে যোগ হবে। তাই আমরা ভেবে দেখেছি, দীর্ঘমেয়াদে আমরা লাভবান হব। আর আমরা ভুটান থেকে যেসব পণ্য আমদানি করি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাথর।

ভুটানের বাজারে কোন কোন পণ্য সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা তৈরি পোশাক, প্লাস্টিক, চামড়াজাত পণ্যকে নিয়ে ভাবছি। এছাড়া কৃষিপণ্যও সেখানে ভালো বাজার পাবে বলে আশা করছি। আর পাটের প্রায় ৩০০ প্রকারের পণ্য আছে। নিঃসন্দেহে এই খাতটি ভালো করবে বলে আশা করছি।

এত দেশ থাকতে ভুটানের সঙ্গে এই চুক্তি কেন-জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের তো কোনো একটা দেশ থেকে শুরু করতে হবে। আমরা আরও ১১টি দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এরমধ্যে নেপাল আছে, মালয়েশিয়া আছে, জাপান আছে। ভুটানের ক্ষেত্রে প্রথমদিকে খুব একটা লাভ না হলেও অন্য দেশগুলোতে কিন্তু লাভ হবে। যেমন মালয়েশিয়ায় বিশাল জনগোষ্ঠী। ওই দেশটিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে আমরা পোশাক খাতটাকে যদি একবার ঢোকাতে পারি তাহলে কিন্তু অনেক বড় একটি বাজার হবে। জাপানের সঙ্গে চুক্তি হলে আমদানিকৃত গাড়ি থেকে ৩-৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারানোর সম্ভাবনা আছে। তাই আমরা ভাবছি আলোচনার মাধ্যমে গাড়ি খাতকে শুল্কমুক্তের বাইরে রাখার। তাহলে সেখানেও আমরা সুবিধা পাব। মোট কথা আমরা ভুটানের মাধ্যমে একটি কাজ শুরু করেছি। ২০২৪ সালে আমরা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন করলে অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও তো করতে হবে।

editor

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *